মাগুরা প্রতিদিন: পুলিশের দুই কর্মকর্তার সামনেই এক পুলিশ সদস্যকে চড়-থাপ্পড়, সঙ্গে নিজের মোবাইলে সেই নির্যাতনের ভিডিও ধারণের ঘটনায় অভিযুক্ত মাগুরা সদর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাঈমুজ্জামান নয়নকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৯ আগস্ট) রাতে পুলিশ সদস্য ইমরান হোসেন বাদী হয়ে মাগুরা সদর থানায় মামলা দায়েরের পর রাতেই নয়নকে গ্রেফতার দেখানো হয়। মামলায় নয়নসহ এজাহারনামীয় চারজন এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার বাদী ইমরান হোসেন মাগুরা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের কন্ট্রোল রুমে কর্তব্যরত সদস্য।
শুক্রবার বিকেলে মাগুরা শহরের মাইক্রোবাস স্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত নাঈমুজ্জামান নয়ন মাগুরা মাইক্রোবাস মালিক সমিতির বর্তমান সভাপতি।
এ ঘটনার একটি ১ মিনিট ২৩ সেকেন্ডের ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মোটরসাইকেলে বসে থাকা পুলিশ সদস্য ইমরান হোসেনকে দুই পুলিশ কর্মকর্তার সামনেই পরপর চড়-থাপ্পড় মারছেন নয়ন। একই সময় নিজের মোবাইল ফোনে পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, এর আগে মাইক্রোবাস স্ট্যান্ড এলাকার লোকজনকে সেখানে জড়ো নয়ন। পরে পুলিশ সদস্য ইমরানের মোটরসাইকেলের চাবি কেড়ে নেন তিনি। এ সময় ঘটনাস্থলে থাকা মাগুরা সদর থানার এএসআই শরিফুল ও এএসআই মাসুদ নিজেদের পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে চাবি নিতে বাধা দেন।
এ সময় নয়নের সঙ্গে থাকা মাগুরা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসেন ওই দুই এএসআইয়ের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে নয়ন মোটরসাইকেলে বসে থাকা ইমরান হোসেনকে পরপর দুটি সজোরে থাপ্পড় মারেন এবং সেই চিত্র ভিডিও করেন।
এদিকে শুক্রবার রাতেই পুলিশ সদস্যকে মারধরের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। শনিবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে ঘটনাটি প্রকাশিত হলে পুলিশের মধ্যেও ব্যাপক অসন্তোষের সৃষ্টি হয় বলে জানা গেছে।
এ অবস্থায় শনিবার দুপুরে নাঈমুজ্জামান নয়নকে আটক করে সদর থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে রাতে পুলিশ সদস্য ইমরান হোসেনের দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়।
আটকের আগে নয়ন সাংবাদিকদের বলেন, “ঠিকাদারি কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে শহরের ঢাকা রোডের কাঁচাবাজার এলাকায় যানজটে আটকা পড়ি। সামনে থাকা ওই পুলিশ সদস্যকে বারবার হর্ন দিলেও তিনি সাইড দেননি। এ নিয়ে তার সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক হয়। তিনি বাজে শব্দ করায় তার মোটরসাইকেলের চাবি কেড়ে নিয়ে একটি থাপ্পড় দিতে বাধ্য হয়েছি।”
মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন নয়নকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রোববার তাকে আদালতে উপস্থাপন করা হবে। এছাড়া মামলার অপর আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে বলেও তিনি জানান।